চাঁদপুরে ঔষধের দোকানে একাধিক চুরির ঘটনায় প্রশাসনকে স্মারকলিপি
প্রান্তিক দাস ।। চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে কালিবাড়ি মোড় এলাকায় ঔষধের দোকানেদুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) চাঁদপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে আসামী আটক ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারে বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সমিতির সভাপতি মোস্তফা রুহুল আনোয়ার, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবিএম নজরুল আমিন সাজু, সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির খান, সসাধারন সসম্পাদক সুভাষ সাহা স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সদস্য মনির হোসেন গাজী, সৈয়দ হোসেন গাজী ও ফারুক হোসেন প্রমূখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, করোনা মহামারী দূর্যোগ মুহুর্তে সরকারি নির্দেশনা মেনে চাঁদপুরের শতাধিক ঔষধ ব্যবসায়ী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আত্মমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময় একটি চোর চক্র ঔষধের ফার্মেসীগুলোতে পর পর চুরি সংঘটিত করে।
সর্বশেষ শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় ৯ আগস্ট রোববার দিনগত রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩ টার মধ্যে দোলা ফার্মেসীর চালরর টিন কেটে নগদ ৫ হাজার ও ১৮ লাখ ৫ শ’ টাকা মূল্যের মূল্যবান ঔষধ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দোকারে মালিক দুদু মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামী করে চাঁদপুর মডেল থানায় ১০ আগস্ট সকালে মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দোকান সংলগ্ন শরীয়তপুর আবাসিক হোটেলের ম্যানেজর মফিজুল ইসলাম, হারুন ও শরীফ বকাউল নামে ৩জনকে আটক করে। এর মধ্যে শহরের গুনরাজদী নিউ ট্রাক রোড এলাকার হারুন বকাউলের ছেলে শরীফ বকাউলকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় বুধবার (১২ আগস্ট) আদালতে প্রেরণ করে।
ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানায়, বিগত দিনে শহরের কালাবাড়ী এলাকার চাঁদপুর মেডিকেল হল, জনতা ফার্মেসী, গাজী ফার্মেসী ও আল-সিফা ফার্মেসীতে চালের টিন কেটে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও চোর চক্রের সদস্য ও কোন মালামাল উদ্ধার করা এখনো সম্ভব হয়নি। এতে করে ঔষধ ব্যবসায়ীরা আতংকের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি মোস্তফা রুহুল আনোয়ার জানান, দোলা ফার্মেসীতে সর্বশেষ চুরির ঘটনায় পাশবর্তী ভুঁইয়া বিগ বাজার সিসি কক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় ৭ আগস্ট শরীয়তপুর আবাসিক হোটেলে ৩০১ ও ৩০২ নম্বর কক্ষে চোর চক্র অবস্থান নেয়। সেখানে থেকে তারা ৯ আগস্ট দিনগত রাতে হোটেলের ছাদ থেকে মই দিয়ে পাশবর্তী ভবনের ছাদে নামে। এরপর সেখান থেকে দোলা ফার্মেসীর চাল কেটে মই দিয়ে নিচে নামে। মালামাল চুরি করে চক্রটি একইভাবে ওই হোটেলে নিয়ে কার্টুন করে ভোর সাড়ে ৫টার সুকৌশলে কেটে পড়ে। এতে ধারণা করা হচ্ছে হোটেলের লোকজন চুরির ঘটনায় জড়িত রয়েছে।
চাঁদপুর মডেল থানার (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, কিছু বিষয়কে ফোকাস করে চুরির ঘটনাটি উদঘাটনে এগিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল ও ফুটেজ দেখে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমরা আশাকরি শীগ্গিরই আসামীরা আটক হবে।
এই বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) কাজী আব্দুর রহিম বলেন, আমরা স্মারকলিপি পেয়েছি। সর্বশেষ চুরির ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আশাকরি তদন্তের মাধ্যমে চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনা যাবে।
চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, প্রশাসন স্মারকলিপির মাধ্যমে ঔষধ ব্যবসায়ীদের একাধিক চুরির ঘটনা অবহিত হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

No comments