করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বুঝতে জনাকীর্ণ কনসার্টের আয়োজন
বিদেশ ডেস্ক ।। জনাকীর্ণ আবদ্ধ জায়গায় কীভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে; তা নিয়ে পরীক্ষা চালাতে এক জনাকীর্ণ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) জার্মানির হ্যালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে একটি কনসার্ট হলে রিস্টার্ট-১৯ নামক গবেষণাটি পরিচালিত হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে; বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস কতটা ছড়ায়; তা বুঝতেই ওই কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কিছুদিন আগে বিশ্বের ২শ’ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে দাবি করেছিলেন, বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে। শুরুর দিকে গুরুত্ব না দিলেও এক পর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকার করেছে যে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবদ্ধ, জনাকীর্ণ স্থানের বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে।
আবদ্ধ জায়গায় করোনার ঝুঁকি পরীক্ষায় গবেষণায় নেমেছেন একদল জার্মানির বিজ্ঞানী। এর অংশ হিসেবে শনিবার লিপজিগে আয়োজিত ওই কনসার্টে অংশ নেন জার্মান পপস্টার টিম বেন্দোজকো। প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবী এতে দর্শক হিসেবে যোগ দেন। তারা অন্য দর্শকদের ভিড়ে মিশে যান। কনসার্ট শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। তাদেরকে ফেস মাস্ক, ফ্লুরোসেন্ট হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও একটি করে ইলেক্ট্রনিক ‘কন্টাক্ট ট্রেসার’ দেওয়া হয়েছিল। এ কন্টাক্স ট্রেসার দিয়ে দর্শকদের একে অপরের সংস্পর্শে আসার হার ও দূরত্ব নির্ধারণ করা যায়। প্রধান গবেষক স্টেফান মরিৎজ জানান, স্বেচ্ছাসেবীদেরকে ফ্লুরোসেন্ট স্যানিটাইজার দেওয়ার কারণে অনুষ্ঠান শেষে আল্ট্রাভায়োলেট ল্যাম্প জ্বালিয়ে তারা সহজে বুঝতে পেরেছেন যে কোন কোন জায়গাগুলো স্পর্শ করেছেন তারা। কারণ, ওই জায়গাগুলো জ্বলজ্বল করছিলো।
এদিন মোট তিনটি শো-এর আযোজন করা হয়েছিল। প্রথমটির আয়োজন করা হয় করোনাভাইরাস মহামারি পূর্ববর্তী সময়ের মতো করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে তেমন কোনও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। দ্বিতীয়টি সাজানো হয় মহামারি পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এক্ষেত্রে দর্শকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়। তৃতীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে দর্শক উপস্থিতি অর্ধেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়। গবেষকরা এরইমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের কাজ করছেন। চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এর ফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, শুরু থেকে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে জার্মানি বিশ্বে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে সম্প্রতি দেশটিতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। জার্মানির জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী শনিবার সেদেশে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৪ জন। এপ্রিলের পর একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা দুই পার হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

No comments